Header Ads

বিশ্বের ৫টি কুখ্যাত কারাগারঃ যা বন্দিদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানোর কুখ্যাতি অর্জন করেছে || শাহরিয়ার সোহাগ

বিশ্বের ৫টি কুখ্যাত কারাগার, যা বন্দিদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানোর কুখ্যাতি অর্জন করেছে, shahriar Sohag, শাহরিয়ার সোহাগ, রাজনীতি, বিশ্লেষণ, বাংলাদেশ

অপরাধ করলে সাজা পেতে হবে, এ কথার সাথে সম্ভবত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অপরাধীও দ্বিমত প্রকাশ করবে না। অপরাধের সাজার সবচেয়ে প্রচলিত ধরন হলো অপরাধীকে কারাবন্দী করা। এটাই বিচার।কেবলমাত্র বাংলাদেশের মতো গুটিকয়েক দেশে অপরাধীদের শাস্তি বিধানের পাশাপাশি ‘মানবাধিকার’ রক্ষা করা হয়, অন্যথায় পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই অপরাধী বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের প্রয়োগ দেখা যায়। পৃথিবীতে এমন কিছু জেলখানা বা কারাগার রয়েছে যেখানে অপরাধীদের ‘নরকযন্ত্রণা’ ভোগ করতে হয় এবং কারাবাসের প্রথম দিন থেকেই তাদের এই নির্মমতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তাদের কারাবাস অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মতো স্বস্তিদায়ক তো নয়-ই, বরং রীতিমতো ‘দুঃস্বপ্নের’। যেখানে আসামীদে্র উপর চালানো নির্মম অত্যাচার। বিশ্বের এই জেলখানা গুলো রক্তাক্ত ঘটনার জন্য কুখ্যাতি অর্জন করেছে। তেমন ৫টি কুখ্যাত কারাগার নিয়ে্ আজকের প্রতিবেদনঃ


১। ইউএসপি ফ্লোরেন্স অ্যাডম্যাক্স কারাগার

প্রথম স্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরেন্স অ্যাডম্যাক্স কারাগার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সুবিধা ভোগকারী কারাগার।যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ফ্লোরেন্সে অবস্থিত ‘ইউএসপি ফ্লোরেন্স অ্যাডম্যাক্স’ কারাগারটি ।  এ কারাগারটি প্রস্তুত করাই হয়েছিল দেশের সবচেয়ে দাগী, হিংস্র এবং অবাধ্য আসামিদের রাখবার জন্য, যাদের অন্য যেকোনো কারাগারেই বন্দী করে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য। অত্যন্ত ধূর্ত বন্দীও এ কারাগারে ঢোকার পর আর দিশা খুঁজে পান না, এমনকি নিজের অবস্থানই নির্ধারণ করতে পারেন না। কারণ, বন্দীদের সেলে জানালাগুলো মাত্র ৪ ইঞ্চি প্রস্থের! ফ্লোরেন্স অ্যাডম্যাক্স কারাগারটি রাশিয়ার পেটাকের চেয়েও অমানবিক। এখানে বন্দীদের নিজস্ব সেলের বাইরে থাকার সুযোগ মেলে দৈনিক মাত্র ১ ঘন্টা। উপরন্তু, এই কারাগারে বন্দীদের সেলগুলো একজন মানুষের জন্যই বানানো। অর্থাৎ, দৈনিক ২৩ ঘণ্টা বন্দীরা কাটায় কোনোরূপ মানুষের সংস্পর্শ ছাড়াই। তাছাড়া, বন্দীরা যে সময়টুকু বাইরে থাকে, সে সময়ও দুজনের অধিক একত্রে বসে কথা বলতে পারে না। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, শারীরিক নয়, মানসিক নির্যাতন চালিয়ে অবাধ্য বন্দীদের বশে আনাই এ কারাগারের উদ্দেশ্য

কারারক্ষীরা বন্দীদের উপর শারীরিক, মানসিক এমনকি যৌন যে কোন ভাবে নির্যাতন চালাতে পারে। এটিকে ‘জাহান্নামের ক্লিনার সংস্করণ’ কারাগার বলা হয়। অসম্ভব কড়া নিরাপত্তা এবং নিয়ম-শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার জন্য মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রতি বছরই বহু বন্দি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।


২। ক্যাম্প ২২

দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তর কোরিয়া কারাগার ক্যাম্প ২২ অন্যতম একটি ভয়াবহ কারাগার। এটি কওয়ান-লি-সো ২২ জন রাজনৈতিক বন্দীর জন্য ১৯৬৫ সালে নির্মিত হয়েছিল। রাজনৈতিক বন্দী ও তাদের পরিবার এমনকি শিশুদেরও এখানে এনে রাখা হয়, যাতে শত্রুর শেষ অংশও উপরে ফেলা যায়। ১৯৬৫ সাল থেকে এখানে প্রায় ৫০,০০০ বন্দি আনা হয় এবং বিভিন্ন সময় এদের ল্যাবে রাসায়নিক বোমা সহ অনেক কিছুর জন্য গিনিপিগ হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। একজন এখনা থেকে পালাতে চেষ্টা করলে, তার পরিবার সহ মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।


৩। গিতারামা কারাগার

আফ্রিকার এ কারাগারটিকে বলা হয় ‘রুয়ান্ডার দুঃস্বপ্ন’। আফ্রিকার একটি রাজ্য রুয়ান্ডায় অবস্থিত এ কারাগারটি বিশ্বের আরেকটি ভয়ঙ্কর কারাগার হিসেবে কুখ্যাত। এই কারাগারে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। বিশ্ব মিডিয়ার দাবি অনুসারে এ কারাগারে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটে। এই কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ৫০০। কিন্তু আঁতকে ওঠার মতো তথ্য হলো, এই ৫০০ জনের থাকার জায়গাতেই গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে ৫০০০ এরও বেশি অপরাধীকে। আর এতেই প্রমাণিত হয়, কারাগারের ভেতরে বন্দীদের কী পরিমাণ দুর্দশা পোহাতে হয়। শুধু তাই নয়, এমন বদ্ধ পরিবেশে একে অপরের মধ্যে চাপাচাপির কারণেই এখানে বন্দীদের মৃত্যু ঘটে। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো এই মৃতদেহ বন্দী সেলের ভেতরেই ফেলে রাখা হয়। বন্দীদের এখানে কোনো খাবার দেওয়া হয় না, যাতে তারা একে অন্যকে খেতে পারে! আর তাই দুর্ভিক্ষ বা খাবারের অভাবে এখানকার অনেক বন্দীর মৃত্যু ঘটে।


২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বীর শহিদ ও অকুতোভয় আন্দোলনকারীদের স্মরণে ও সম্মানে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে শাহরিয়ার সোহাগ এর নতুন উপন্যাস বাংলা বসন্ত। অর্ডার করতে ক্লিক করুন

৪। লুজিয়ানা পেনিটেনশিয়ারি

এটিকে বলা হয় দক্ষিণের আলকাট্রজ। দ্য ফার্ম অথবা এলএসপি নামেও এই কারাগারের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। এ কারাগারের অবস্থান আমেরিকার লুজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। আর লুজিয়ানা স্টেট পেনিটেনশিয়ারি শীর্ষক এই কারাগারটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংবলিত বৃহত্তম কারাগার বলা চলে। এ কারাগারে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি বন্দী রয়েছে।এখানে একশরও বেশি বন্দীকে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে বলে কথিত রয়েছে। এই কারাগারটিকে রাজ্যের মৃত্যুকূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর অপরাধীরাও এই কারাগারের নাম শুনলে চমকে ওঠে।বলা চলে, এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে সর্বাধুনিক উপায়ে বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ইলেকট্র্রনিক শক, ইলেকট্র্রিক চেয়ারসহ অন্যান্য উপায়ে চালানো এই নির্যাতন বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহতম নির্যাতন হিসেবে খ্যাত। এখানকার কারাগারের নির্যাতন এতটাই ভয়াবহ যে প্রায়ই এর ফলে বন্দীদের মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যও কারাগারটি কুখ্যাত।


৫। দিয়ারবাকির কারাগার

দিয়ারবাকির কারাগারটি তুরস্কে অবস্থিত। এটি ১৯৮০ সালে খুলে দেওয়া হয়। এই কারাগারে বন্দীদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। মানকাধিকার লঙ্ঘনকারী কারাগারগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এখানকার বন্দীদের উপর শারীরিক, মানসিক এমনকি যৌন নির্যাতন চালনো হয়। এ অবস্থা থেকে বাচার জন্য বন্দিরা মাঝেমাঝেই আত্মহত্যার করে থাকে। এই কারাগার অবসানের জন্য অনেক আন্দোলন সত্ত্বেও এটি এখনো কার্যকর। বিশ্বের সেরা ৫ টি কুখ্যাত জেলখানার মধ্যে এটির অবস্থান ৫ নম্বরে।

No comments

Powered by Blogger.