Header Ads

বাবরি মসজিদ: দুই জনেই সবকিছু টের পেলেন হাড়ে হাড়ে..

বাবরি মসজিদ- দুই জনেই সবকিছু টের পেলেন হাড়ে হাড়ে, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News, bangla news, bangladeshi news, today u

কয়েক বছর আগে ভারতের ইতিহাসে ঘটে এক কলঙ্কজনক ঘটনা। রাম মন্দিরের ধোয়া তুলে ভাঙ্গা হয় ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ। এরপর বহু জল গড়ে। বাবরীর ধ্বংসস্তুপের উপর রাম মন্দির বানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির অতি ডাকবন্থী সরকার। তবে বাবরীর রেশ এখনো যায়নি। পশ্চিমবঙ্গে এক বিধায়ক ফের বাবরী মসজিদ গড়ার ডাক দিয়েছেন। তাই বাবরী ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। আর ঠিক সেখানে দাঁড়িয়েই ফিরছে ইতিহাস। সামনে আসছে বাবরিতে আঘাত হানা বলবীর আর যোগেন্দ্র পালের কথা। বাবরি ভাঙ্গায় অংশ নিয়েছিলেন দুই তরুণ। বলবীর সিং আর যোগেন্দ্র পাল। দুজনেই তখন শিবসনের সক্রিয় কর্মী। অযোধ্যায় মসজিদে গম্বুজ উঠে হাতে সাবল চালিয়েছিলেন তারা। তবে সেদিনে সেই ঘটনায় তাদের জীবন নাটকীয় ভাবে বদলে দেয়। ঘটনার পর পানিপথে ফিরে বড় ধরণের সংবর্ধনা পান তারা। স্থানীয়দের কাছে নায়ক বনে যান বলবীর ও যোগেন্দ্র। মসজিদের চুড়া থেকে দুটি ইট এনে সাজানো হয়েছিল শিবসেনার অফিসে। কিন্ত বাহবাই শেষ কথা নয় সেটা বুঝতে সময় লাগেনি বলবের। বাড়ি ফিরতে ধাক্কা খেলেন তিনি। তার বাবা দৌলতরাম তাকে স্পষ্ট বলে দেন এ বাড়িতে হয় তুমি থাকবে, না হলে আমি। শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছাড়েন বলবীর। স্ত্রীও তার সঙ্গে যেতে রাজি হননি। পুরনো জীবনের সঙ্গে এক ঝটকায় সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় অনিশ্চিত একাকি জীবন। ভব ঘুরের মত ঘুরে বেড়তেন বলবীর। লম্বা দাড়িওয়ালা কোনো মুসলিম দেখলে ভয় পেতেন তিনি। এক সময় বাড়ি ফিরে তিনি শুনতে পান তার বাবা আর নেই। বাবরির দুঃখেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে, একথা শুনে ভেঙে পড়েন বলবীর। অন্যদিকে নিজের সঙ্গেই যোগ্রীন্দ্র পালে খোজ দিতে গিয়ে বলবীর জানতে পারেন আরো বিশ্বয়কর এক সত্য। যোগেন্দ্রনাথের প্রাশ্চিতের জন্য মুসলিম হয়ে গেছেন। কারণ মসজিদ ভাগার পর থেকেই তার মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। মনে হতে থাকে বড় পাপ করেছেন। সে পাপ মোচনের পথ হিসেবে বেছে নেন ইসলাম গ্রহণ। যোগেন্দ্রর মুখে এসব শোনার পর মলেমিরার অপেক্ষা করেননি। সনে পথে গিয়ে মাওলানা কালীন সিদ্দিকীর কাছে দীক্ষা নেন। নতুন পরিচয় হিসেবে মোহাম্মদ আমির গ্রহণ করেন। রাখেন লম্বা দাড়ি নিয়মিত মসজিদে যান। ভোরে ফজরের আজান দেন। আল্লাহর জিকিরে শান্তি খুঁজে পান তিনি। মৌলবীর জারান তাদের পরিবার কখনোই উগ্র হিন্দু ছিল না। বাবা দৌলতরাম ছিলেন গান্ধীবাদী। আশপাশে মুসলমানদের আগলে রাখতেন সবসময়। ঘরে গীতা থাকলেও কেউ পড়তেন না। মন্দিরেও যাওয়া হতো না। তারপরও পানিপথে উচ্চ শিক্ষা দিতে গিয়ে আরএস এস এর কিছু কর্মীর সভ্যসূচক আচরণ তাকে আকৃষ্ট করেছিল। তখন থেকে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনদের সঙ্গে। রহতক মহর্ষী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইংরেজিতে এবি ডিগ্রি দেওয়া বলবীর কিছুদিন পর বিয়ে করেন। কিন্তু বাবরি ভাগার পর সে দাপত্য ভেঙে যায়। ইসলাম গ্রহণের পর বলবীর বিশেষ প্রতিজ্ঞা করেন। তিনি বলেন, বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রাশ্চিত্য হিসেবে তিনি ভারতের ভেঙে পড়া মসজিদ এর বিনিময়ে তিনি ১০০ টি মসজিদ সংস্কার করবেন । তার দাবি ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে মেওট এলাকায় অনেক জীদ মসজিদ খুঁজে সেগুলো সংস্কার করেছেন তিনি। স্থানীয় মুসলিমদের সহায়তায় উত্তরপ্রদেশের মেন্ডুর মসজিদও মেরামত করতে সক্ষম হন তিনি। বলবীর সিং থেকে বহু আবির এই রূপান্তর শুধু ধর্ম পরিবর্তনের গল্প নয় । গভীর অনুতাপ অপরাধ বোধ ও আত্মশান্তির সন্ধানে গল্প বাবরী মসজিদ ভাগারদ্দিদে যে দুজন একই পথে হাঁটছিলেন পরিণতিতে তাদের পথই দুজনকে দিয়ে গেছে ভিন্ন পরিচয়।

No comments

Powered by Blogger.