Header Ads

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদ জাহাজ!

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদ জাহাজ, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News, bangla news, bangladeshi news, today update news,

একটা সময় ছিল যখন বিশাল কোনো জাহাজের কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠতো টাইটেনিকের ছবি। কিন্তু সে জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে এক আধুনিক দৈত্যাকার জাহাজ আইকন অফ দ্যা সিজ। এই জাহাজটি টাইটেনিকের চেয়ে শুধু বড়ই নয় বরং আকারে প্রায় দ্বিগুণ। টাইটানিক যাত্রী বহন করতে পারত মাত্র ৩৩০০ জন। সেখানে আইকন অফ দ্যা সিজে একসাথে ৭০০০ এর বেশি মানুষ ভ্রমণ করতে পারে। এই স্বপ্নের জাহাজ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানি রয়েল ক্যারিবিয়ান গ্রুপ। এটি শুধু মাত্র একটি জাহাজ নয় বরং ভাসমান এক বিশাল শহর। এতে রয়েছে প্রায় ৩০০০ বিলাসবহুল হোটেল রুম, ৪০ টি রেস্টটুরেন্ট, সাতটি বিশাল সুইমিং পুল,  বিশ্বের সব চেয়ে বড় ভাসমান ওয়াটার পার্ক, সুবিশাল থিয়েটার, শপিং মল, ক্যাফে, বার এবং এমনকি একটা শহরের মতো আলাদা আলাদা আটটি এলাকা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই প্রমোদ জাহাজের ভেতরে কি আছে সে সম্পর্কে জেনে আসা যাক আরো বিস্তারিত ভাবে। ২০১৬ সালে ক্যারিবিয়ান গ্রুপ ঘোষণা দেয় তারা এমন এক নতুন প্রজন্মের জাহাজ তৈরি করতে যাচ্ছে যেটি শুধু বড় বা বিলাসবহুলী নয় বরং প্রযুক্তি পরিবেশ সচেতনতা এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকেও আগের সকল জাহাজকে ছাপিয়ে যাবে তারা এই নতুন সিরিজের নাম দেয় আইকন ক্লাস এই শ্রেনীর প্রথম জাহাজ আইকন অফ দ্যা সিজ নির্মিত হয় ফিনল্যান্ডের বিখ্যাত মেয়ার টার্কু শিপিয়ার্ডে জাহাজটির কাঠামো তৈরি অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা প্রযুক্তি সংযোজন মিলিয়ে প্রায় ১০ বছর সময় লাগে। সবশেষে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোত্তরী প্রথমবারের মতো সমুদ্রে যাত্রা করে। তবে রয়েল ক্যারাবিয়ান এখানেই থেমে থাকেনি। তারা একই ডিজাইন ও ধারণা নিয়ে স্টার অফ দ্যা সিজ নামে আরেকটি নতুন জাহাজ তৈরি করেছে। এটি ২০২৫ সালের আগস্টে প্রথম যাত্রা শুরু করবে। এটি আইকন অফ দ্যা সিজের জমজ বোনের মতো। একই দৈর্ঘ্য , ওজন, যাত্রী ধারন ক্ষমতা এমনকি একই ধরণের অভিজ্ঞতার কারণে যাত্রীরা এর ভেতরে থেকে বুঝতেও পারবে না কোনটি আইকন অফ দ্যা সিজ আর কোনটি স্টার অফ দ্যা সিজ এই প্রতিটি জাহাজের ওজন প্রায় ২ লক্ষ ৫০০০ গ্রসন যা প্রায় ৩৫০০০ হাতির ওজনের সমান এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০০ ফুট বা চারটি ফুটবল মাঠের সমান লম্বা এবং উচ্চতায় জাহাজগুলো ২০ তলা বিল্ডিং এর সমান উচু প্রতিটি জাহাজে একসাথে সাত হাজারেরও বেশি যাত্রী ও ক্র সদস্য ভ্রমণ করতে পারে। রয়েল ক্যারিবিয়ান গ্রুপ তাদের আইকন সিরিজের আওতায় লিজেন্ড অফ দ্যা সিজ নামে আরো দুটি জাহাজ ২০২৬ ও ২০২৭ সালে চালু করার পরিকল্পনা করছে। আইকন অফ দ্যা সিজকে শুধু একটি জাহাজ বললে ভুল হবে। এটি আসলে এক ভাসমান শহর । আর এই শহরকে সাজানো হয়েছে আটটি আলাদা আলাদা নেইবারহুড বা পাড়া হিসেবে। প্রতিটি পাড়াই পর্যটকদের আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। যারা আরাম আর প্রশান্তির সন্ধানে থাকেন তাদের জন্য রয়েছে চিল আইল্যান্ড। এখানে চারটি সুইমিংপুল এবং আরাম চেয়ারে বসে সূর্যাস্ত দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। যারা একটু এডভেঞ্চার প্রিয় তাদের ঠিকানা হল থ্রিল আইল্যান্ড। এখানেই আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভাসমান ওয়াটার পার্ক। ছোট বড় সবার জন্যই এটি এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। যারা একটু রোমান্টিক পরিবেশে সময় কাটাতে চায়, তাদের গন্তব্য দ্যা হাইডাওয়ে এলাকা। এটি সমুদ্রের উপরে ঝুলে থাকা ইনফিনিটি পুল। ব্যক্তিগত লাউঞ্জচেয়ার আর সূর্যাস্তের দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। সার্ফ সাইড নামের একটি বিশেষ ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি পাড়াও রয়েছে। যেটি শুধুমাত্র শিশু ও পরিবার কেন্দ্রিক। বাচ্চাদের জন্য আলাদা ওয়াটার স্লাইড, খেলাধুলার জায়গা, কার্টুন থিম পার্ক এমনকি পরিবারের সবাই একসাথে বসে খেতে পারে এমন রেস্টরেন্টও রয়েছে। একোয়াডোম নামে জাহাজের একদম উপরে বিশাল কাচের গম্বুজের মতো আরেকটি বিশেষ এরিয়া আছে। যেখানে রয়েছে বিশ্বে সবচেয়ে বড় ভাসমান ওয়াটার থিয়েটার। জাহাজের একদম মাঝখানে রয়েছে রয়েল প্রমানেডে নামের এক আধুনিক বানিজ্যিক এলাকা। এখানেআছে দোকানপাট ,শপিং মল, ক্যাফে রেস্তোরা এবং লাইফ মিউজিক এর ব্যবস্থা। এমনকি প্রায় ৩০,০০০ গাছপালা দিয়ে এখানে একটি কৃত্রিম পার্কের মতো পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সবশেষে রয়েছে সুইট নেইবারহুড যেটি মূলত ভিআইপি যাত্রী দের জন্য। এই এলাকাটি শুধুমাত্র সুইট ক্লাসের কেবিনে থাকা অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত। এখানে রয়েছে ব্যক্তিগত পুল , এক্সক্লুসিভ রেস্টুরেন্ট এবং আলাদা ভিআইপি লাউঞ্জ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রজশীপ আইকন অফ দ্যা সিজ ক্রজশীপ আইকন অফ দ্যা সিজ শুধু মাত্র একটি জাহাজ নয়, এটি যেন চলমান একটু রাজপ্রাসাদ। এখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও রাজকীয়। আইকন অফ দ্যা সিজ জাহাজে বহু ধরনের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এইগুলো শুধু ঘুমানোর জায়গা নয়। বরং প্রতিটি কেবিনেই যেন একেকটি পাঁচ তারকা মানের বিলাসবহুল হোটেল রুম। এখানে মোট ২৮০৫ টি কেবিন রুম রয়েছে যার প্রতিটি বিশেষ ভাবে সাজানো। যারা একটু বাজেটের মধ্যে থাকতে চান স্ট্যান্ডার্ড ইন্টেরিয়র রুম বা ব্যালকনি কেবিন। প্রতিটি কেবিনে রয়েছে স্মার্ট টিভি, এসি, ব্যক্তিগত বাথরুম, স্টোরেজ স্পেস এবং বিলাসবহুল বিছানা। আর যারা রাজকীয় বিলাসিতায় বিশ্বাস করেন তাদের জন্য রয়েছে রয়েল লফট সুট, সানসেট কর্ণার সুট, প্যানোরমিক ওশান ভিউজ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত আল্টিমেট ফ্যামিলি টাউন হাউজ। এই টাউন হাউস রুমগুলো মূলত ট্রিপ্লেক্স বা তিনতলা বিশিষ্ট ঘর। এখানে আছে ব্যক্তিগত স্লাইড, সিনেমা স্ক্রিন, বাচ্চাদের খেলার ঘর, দুইটি বাথরুম এবং আলাদা ডাইনিং এরিয়া। কিছু কিছু সুটে আলাদা জাকুজি, ব্যালকনি এমনকি সমুদ্রের দিকে মুখ করে থাকা ইনফিনিটি পুলও রয়েছে। সেই সাথে আছে সুবিশাল ওপেন ডেক বা ব্যক্তিগত বারান্দা। এছাড়া বিলাসবহুল সুটের অতিথিদের জন্য একজন বাটলার নির্ধারিত থাকে। যে ২৪ ঘন্টা অতিথিদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, শো বুকিং বা যেকোনো ব্যবস্থা করে দেয়। এই শিপে আছে ৪০টির বেশি রেস্তোরা, ক্যাফে ও বার, পর্যটকরা এখানে ইতালিয়ান, জাপানিজ, আমেরিকান এমনকি ভারতীয় খাবারও খেতে পারবে। দিনের শুরুতে নাস্তায় রয়েছে ইউরোপিয়ন বেকারিও ফলমূল, দুপুরে আন্তর্জাতিক বুফে আর রাতে মোমবাতির আলোয় সমুদ্র দেখার মতো রোমান্টিক ডিনার। চাইলে কেবিনে বসেও আপনি রুম সার্ভিসের মাধ্যমে পছন্দের খাবার পেতে পারেন। অনেকেই হয়তো একসপ্তাহ এই জাহাজে কাটানো একটা বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা হবে। তাদের জন্যই এখানে রয়েছে ব্রডওয়ে স্টাইল থিয়েটার, আইস স্কেটিং এরিনা, লাইফ মিউজিক পারফরম্যান্স, ডিজে পার্টি, ক্লাইবিং ওয়াল, মিনি গলফ এমনকি বিশাল ভিডিও গেম জোন। ছোটদের জন্য আছে কার্টুন থিম পার্ক, বাচ্চাদের লাইফ শো আর স্লাইডে ভরা খেলাঘর। সবকিছু মিলিয়ে আইকন অফ দ্যা সিজ হলো একটি পর্যটন নগরী। এখানে এক সপ্তাহের যাত্রা শুরু হয় জনপ্রতি প্রায় ২০০০ মার্কিন ডলার থেকে যা বাংলাদেশি টাকাই প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মতো। তবে কেবিন, খাবার এবং সিজন অনুযায়ী এই খরচ তিন থেকে চার লক্ষ টাকা পর্যন্তও হতে পারে। যারা একটু বিলাসী ক্যাটাগরির সুইট টাইপ কেবিন নিতে চাই তাদের খরচ হবে ৩৫ লক্ষ থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত। আইকন অফ দ্যা সিজ কেবল বিশাল এবং বিলাস বহুলী এটি পরিবেশ নিয়ে সচেতনতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এই জাহাজটি এলএনজি বা লুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস দিয়ে চালিত হয় । যা প্রচলিত ডিজেল বা ভারী মেরিন ফুয়েলের তুলনায় অনেক কম পরিমাণে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও কার্বন নিঃসরণ করে। এলএনজি শুধু দূষণ কমায় না বরং শব্দদূষণও হ্রাস করে। ফলে এটি সামুদ্রিক জীবজগতের জন্যও তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। তাছাড়া, জাহাজটিতে রয়েছে উন্নত বর্যশোধন প্রযুক্তি যার মাধ্যমে প্রতিদিনের তরল বর্য ফিল্টার করে পুনঃপ্রিয়াজাত করা হয়। বাথরুম, রান্নাঘর বা অন্যান্য ব্যবহার্য জলের অনেকাংশই রিসাইকেল করে ব্যবহার করা হয়। যাতে পানির অপচয়ও কমানো যায়। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফুয়েল সেল সাপোর্টেড পাওয়ার সিস্টেম। এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি যা বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদনের জন্য হাইড্রোজেন বা অন্যান্য পরিছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে। আইকন অফ দ্যা সিজ জাহাজটির মালিকানা কোম্পানি রয়েল ক্যারিবিয়ান গ্রুপ হলেও এই রয়েল ক্যারিবিয়ান গ্রুপের মালিকানার ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে কুখ্যাত বিগ থ্রির হাতে। তিনটি এসেস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ভ্যানগার্ড, ব্লাকরথ এবং স্ট্রেট স্ট্রিটকে একসাথে বলা হয় বিগ থ্রি। অ্যাপল, ফেসবুক, গুগল, টেসলা, অ্যামাজন, কোকাকোলা সহ বিশ্বের হাজারো শীর্য প্রতিষ্ঠানে বিগ থ্রির অংশীদারিত্ব রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.