আল আকসার নিচে সুড়ঙ্গ !
আল আকসা ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। জেরুজালেমে
অবস্থিত এই মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘকাল ধরে উত্তেজনা চলছে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল জেরুজালেম
দখল করার পর থেকে এই এলাকার ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র স্থান গুলো কাগজে কলমে
জর্ডানের তত্ত্বাবধানে থাকলেও এর মূল নিয়ন্ত্রণ আসলে অবৈধ দখলদার ইসরাইলের কাছে রয়েছে।
ইসরাইল সরকার বছরের পর বছর ধরে আল আকসা মসজিদের নিচে এবং মসজিদের আশে পাশের এলাকায়
প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ চালাচ্ছে। মসজিদের প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেনগাভিরের উগ্রবাদী চরমপন্থী জায়নবাদীরা
পুলিশি পাহারায় নিয়মিত জোর করে আল আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে তারা মুসলিমদের
পবিত্র এই জায়গায় ইহুদিদের প্রবেশ স্বাভাবিকীরণ করার চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনের মুসলিমরা
আশঙ্কা করছে ইসরাইলিরা খুব শীঘ্রই হয়তো এখানে বড়সড় কিছু করতে যাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে
মসজিদের নিচে বিপুল টানেল খনন করে মসজিদের ভীত দূর্বল করে ফেলেছে। আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের
ঠিক নিচেই ইসরাইল নিয়মিত খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে যে আল আকসা
মসজিদের নিচে ইহুদিদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে বলে ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে ইসরাইল
বহু বছর থেকে পবিত্র স্থানটির গভীরে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করছে তারা আশঙ্কা করছে যে ইসরাইলের
এইসব অবৈধ খননের ফলে আল আকসা প্রাঙ্গণের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে যার ফলে মসজিদের কিছু
অংশ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ইসরাইল শুধু আল আকসা মসজিদই নয় এর আশে পাশের এলাকায়
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও মুছে ফেলা বিলীন করা এবং ধ্বংস করা শুরু করেছে এর কারণ
হলো এসব অঞ্চলে অতীতে আবিষ্কৃত এবং বর্তমানে বিদ্যমান সমস্ত প্রত্যতাত্ত্বিক নিদর্শনই
হয় আরব, কানানীয়, ইসলামিক, বাইজেন্টাইন অথবা রোমান সভ্যতার। কিন্তু এখানে ইহুদি ধর্মের
সাথে সম্পর্কিত কোন আলামত পাওয়া যায়নি। ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই খননগুলো
যতটা না ইতিহাস সম্পর্কিত তার চেয়েও অনেক বেশি রাজ নৈতিক। তার চেয়েও অনেক বেশি রাজনৈতিক। ইসরাইলের মূল উদ্দেশ্য হলো জেরুজালেমের আরব ও ইসলামিক পরিচয় মুছে ফেলা এবং সেখানে
নতুন বাস্তবতা তৈরি করা। যাতে করে ইহুদিরা এই পবিত্র ভূমি দখল করার জন্য নামমাত্র কিছু
বৈধ্যতা তৈরি করতে পারে। আল-আকসা মসজিদের নিচে খনন কাজের মোটা দাগে তিনটি উদ্দেশ্য
রয়েছে। প্রথম উদ্দেশ্যটি হলো জেরুজালেমের ৭০০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সভ্যতাকে ধ্বংস
করা। যা দখলদাররা ইতোমধ্যে বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটি
হলো একটি রাজনৈতিক অভিপ্রায়। যার মাধ্যমে ইসরাইলি উগ্রপন্থী জঙ্গি রাজনৈতিক দলগুলো
আল আকসা মসজিদে আগ্রাসন চালিয়ে ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের জনপ্রিয়তা অর্জন করে বেশি
ভোট সংগ্রহ করতে পারে এবং তৃতীয় উদ্দেশ্যটি হলো এই এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা
অর্থাৎ তারা বোঝাতে চাচ্ছে যে ইসরাইল সরকার শুধু ফিলিস্থিনি ভূখন্ডই নয় বরং তাদের হৃদয়ের
কেন্দ্রস্থল পবিত্র আল আকসা মসজিদেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে । গাজায়
ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে খননের কাজ আরো তীব্র হয়েছে। বিশ্ববাসী
যখন গাঁজা যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত ছিল তখন ইসরাইল ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে আগ্রাসন বৃদ্ধিসহ
আল-আকসা প্রাঙ্গণেও তাদের অতৎপরতার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদ
মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গাঁজা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লক্ষ্য করা গেছে যে পবিত্র
মসজিদের নিচে চলমান খননগুলো দ্বিগুণ গতিতে এগিয়েছে সেই সাথে সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ধ্বংসের
মাত্রা অভূতপূর্ব ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই বছরে ইসলামী নিদর্শন ধ্বংস করতে যুদ্ধের
ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখানে পাওয়া সমস্ত ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক
আবিষ্কারগুলো চুরি করে অজানা গন্তব্যে চোরাচালান করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা বলছে ইসরাইল
অবৈধ কার্যকলাপের কারণে পবিত্র মসজিদের বাস্তবতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে এবং আল আকসা
প্রাঙ্গণের যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা খুব শীঘ্রই যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
ইহুদিদের কাছে পবিত্র আল আকসা প্রাঙ্গণ টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত । এর কারণ হলো ইহুদিরা
মনে করে এখানেই প্রথম এবং দ্বিতীয় জুইশ টেম্পল বা ইহুদি মন্দির ছিল। এবং তাদের থার্ড
টেম্পল বা তৃতীয় মন্দিরও এখানেই নির্মিত হবে। বর্তমানেও এখানে থাকা ওয়েস্টার্ন ওয়াল
ইহুদিদের উপাসনার জন্য অন্যতম পবিত্র স্থান। শুধু তাই নয় খ্রিস্টানরাও মনে করে যে যিশু
খ্রিস্ট এখানে থাকা দ্বিতীয় মন্দিরে ধর্ম প্রচার করেছেন। তিন ধর্মের পবিত্র স্থান হিসেবে
বিবেচিত হলেও উগ্র ইহুদিরা আল আকসা মসজিদ ভেঙে এখানে তাদের তৃতীয় মন্দির নির্মাণ করতে চায়। উগ্রপন্থী
ইহুদিরা আল আকসা ভাঙতে চায়।


No comments